ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা সম্প্রতি বেড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে পণ্যটির সরবরাহ কমে আসতে পারে। এ খবরে গত শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে ২ শতাংশের বেশি।
বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলনকারী রিগের সংখ্যা কমতে থাকায় সরবরাহ আরো সীমিত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা ও যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতির দিকেও নজর রাখছেন জ্বালানি তেলের বাজারের বিনিয়োগকারীরা।
সাপ্তাহিক লেনদেনের শেষদিন শুক্রবার অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলে ১ দশমিক ৭২ ডলার বা ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৭০ ডলার ৩৬ সেন্টে। একই সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ১ দশমিক ৮৮ ডলার বা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ ডলার ৪৫ সেন্টে স্থির হয়েছে। সব মিলিয়ে সপ্তাহজুড়ে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম যথাক্রমে ৩ ও ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে।
এদিকে আইইএ জানিয়েছে, বাজারে সরবরাহ ঘাটতির আশঙ্কায় সেপ্টেম্বরের ব্রেন্ট চুক্তি অক্টোবরের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ২০ ডলার বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে।
প্রাইস ফিউচারস গ্রুপের সিনিয়র অ্যানালিস্ট ফিল ফ্লিন বলেন, ‘সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কার প্রভাব এরই মধ্যে বাজারে পড়তে শুরু করেছে। এছাড়া মার্কিন জ্বালানি কোম্পানিগুলো টানা ১১ সপ্তাহ ধরে জ্বালানি তেল ও গ্যাস উত্তোলনকারী রিগ কমাচ্ছে। এর আগে ২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারীর সময়ে রিগ সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়েছিল দেশটি।
রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, ওপেক প্লাস দ্রুত উত্তোলন বাড়াতে পারে বলে মনে করা হলেও স্বল্পমেয়াদে বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে।
জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদে চীনের চাহিদা কমায় ২০২৬-২৯ সময়ের বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের চাহিদার পূর্বাভাস কমিয়েছে পেট্রোলিয়াম রফতানিকারক দেশগুলোর সংস্থা ওপেক।